Pages

Thursday, October 6, 2011

আরও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা - অর্থ সংকটে সরকার, ঋণ নেওয়া বাড়ছে

ব্যয় মেটানোর টাকা নেই সরকারের হাতে। ব্যাংক থেকে ধার করে চলছে সরকার। এতে আরও মূল্যম্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ পেতেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বড় অঙ্কের ধার নিয়েই বছরটি শুরু হয়েছে সরকারের। দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে নতুন অর্থবছরের মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে ব্যাংকিং খাতে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা।
এর আগে গত বছর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সরকারের নিট ঋণ সব পরিকল্পনাকে ছাপিয়ে যায়। সমাপ্ত ২০১০-১১ অর্থবছরে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ করে প্রায় ২০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা ওই অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ও সংশোধিত বাজেট লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই হাজার কোটি টাকা বেশি।
গেল বছর সরকারের এ ঋণের প্রায় অর্ধেকটা নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। আর নতুন অর্থবছরের আড়াই মাসেও সরকারের ঋণের বড় অংশ জুগিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সূত্র জানায়, ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নিট ঋণ করেছে সাত হাজার ৮৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার নিয়েছে চার হাজার ১০২ কোটি টাকা এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের ট্রেজারি বিল ও বন্ড বিক্রি করে তুলে দিয়েছে তিন হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের ঋণ ছিল মাত্র ৩৬১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
তফসিলি ব্যাংক থেকে সরকার বেশি ঋণ করলে বেসরকারি খাতের ঋণ পাওয়ার সুযোগ কমে আসে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ করলে, যদি বাংলাদেশ ব্যাংক পরবর্তী সময়ে তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে সরকারি ট্রেজারি বিল বা বন্ড বিক্রি করে তা তুলে নিতে না পারে, তবে শেষ পর্যন্ত নতুন টাকা বাজারে বেড়ে যায়। আর এতে বাড়ে দ্রব্যমূল্য। গত অর্থবছরে শেষ পর্যন্ত নতুন টাকা বাজারে ঢুকেছে। এবারও সে আশঙ্কাই রয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, বিদেশি অর্থায়ন না পেলে সরকারের ব্যয় সাশ্রয় ছাড়া ব্যাংকঋণ কমানো যাবে না। বিদেশি অর্থায়ন এলে তার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে টাকা ছেপে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে টাকা ছাপার মতো সম্পদ জমা থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে। অন্যথায় যে নতুন টাকা ছাপা হবে সরকারের চাহিদা মেটাতে, তা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অর্থ। এতে দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।
যোগাযোগ করা হলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর প্রথম আলোকে বলেন, দুটি কারণে সরকারের ঋণ বাড়ছে। বৈদেশিক সাহায্য না আসা এবং নানা খাতে বিশেষত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ভর্তুকি দেওয়া। যেভাবে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে, তাতে বেসরকারি খাতের কিছু লোককে আরও বড়লোক বানানো হবে।
আহসান মনসুর বলেন, গত বছর ব্যাংকিং খাত থেকে যে ঋণ ছিল, তা করা হয়েছিল জুন মাসে। এবার বছরের শুরুতেই বড় অঙ্কের ঋণ করা হচ্ছে। আর এ ঋণ যদি গত বছরের মতো শেষ পর্যন্ত টাকা ছেপেই মেটাতে হয়, তবে দ্রব্যমূল্য উচ্চহারে বাড়বে। সেটি বোধ হয় অর্থনীতির জন্য ভালো হবে না। তিনি বলেন, ‘আমি বলতে চাই, বর্তমান মূল্যস্ফীতি অভ্যন্তরীণ নীতিমালার কারণেই মূলত ঘটছে, বাইরের থেকে নয়।’

News Source


 আইসিবির আট মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ল

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনাধীন আটটি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। তবে বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সভায় গতকাল বুধবার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং আইসিবির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এসইসি ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর আইসিবির পরিচালনাধীন মিউচুয়াল ফান্ড প্রথম আইসিবি, দ্বিতীয় আইসিবি, তৃতীয় আইসিবি, চতুর্থ আইসিবি, পঞ্চম আইসিবি, ষষ্ঠ আইসিবি, সপ্তম আইসিবি ও অষ্টম আইসিবি এবং প্রথম বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ডসহ নয়টি মিউচুয়াল ফান্ডকে ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবসায়ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দেশ দেয়। কিন্তু ফান্ডগুলোর গঠনকালীন আইন ও বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে বেশ কয়েকবার আইসিবি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে। অর্থ মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি অবহিত করে আইসিবি।
জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপেই সময় বাড়াল এসইসি।
আসছে ৫০ কোটি টাকার আরও একটি মিউচুয়াল ফান্ড: এসইসি গতকাল ৫০ কোটি টাকার ১০ বছর মেয়াদি নতুন একটি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসপেক্টাস অনুমোদন করেছে। ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের নাম মিলিয়ে ফান্ডটির নামকরণ করা হয়েছে ভিআইপিবিএনএলআই-প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড। এটির মূল উদ্যোক্তা ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি আর ব্যবস্থাপনায় থাকছে সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।
জানা গেছে, ৫০ কোটি টাকার মধ্যে উদ্যোক্তারা দেবে ১০ কোটি টাকা। আর বাকি ৪০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০ কোটি টাকা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও এবং ১০ কোটি টাকা প্রাক-আইপিওর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে। ফান্ডটির অভিহিত মূল্য হবে ১০ টাকা। শিগগিরই এটি বাজারে আসবে।

News Source


Wednesday, October 5, 2011

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

বর্তমানে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো তহবিল সংকটে (ফান্ড ক্রাইসিস) ভুগছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মুহাম্মদ এ হাফিজ। এ কারণেই, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও শেয়ারবাজারে তারা সে অনুযায়ী বিনিয়োগ করতে পারছে না মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো। বুধবার প্রথম আলো অনলাইনের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি একথা বলেন।
বর্তমানে অনেক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় এটাই বিনিয়োগের উত্তম সময় বলে জানান এ হাফিজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যাংক তার মোট আমানতের (লায়াবিলিটিজ) ১০ শতাংশ অর্থ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। বিনিয়োগকারী ব্যাংক বিনিয়োগযোগ্য অর্থের ১৫ শতাংশের বেশি তার সাবসিডিয়ারি মার্চেন্ট ব্যাংককে একক ঋণ হিসেবে দিতে পারবে না। তবে অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক ইতিমধ্যে এই সীমা থেকে অতিরিক্ত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে আছে।
এদিকে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে একক গ্রাহক ঋণসীমা সমন্বয়ের সময়সীমা ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে অনেক ব্যাংক সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে বিনিয়োগকৃত অতিরিক্ত অর্থ সমন্বয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে। তাই তারা নতুন করে বিনিয়োগে যেতে পারছে না। এ হাফিজ এই সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে বেশ কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেক মার্চেন্ট ব্যাংকই সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার বা তার ওপরে সূচক থাকা অবস্থায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিল। আর বর্তমানে সূচক ছয় হাজারের নীচে নেমে আসায় অধিকাংশ মার্চেন্ট ব্যাংকই বেশ আর্থিক সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে বিনিয়োগে যেতে পারছে না তারা। তবে ব্যাংকগুলো বর্তমানে বাজারে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা যায়।

News Source


Tuesday, October 4, 2011

ICB ISLAMI BANK : অবশেষে লাভের মুখ দেখেছে

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক। নানা আলোচনার জন্ম দেয়া ব্যাংকটিতে দিন দিন আমানতের পরিমাণ বাড়ছে, মিলছে লাভের দেখা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে যথাসময়ে আগের গ্রাহকদের অর্থও পরিশোধ করছে তারা। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রাখতে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন নতুন পরিকল্পনা।
কিছুদিন আগেও ব্যাংকটি বিক্রি করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল ব্যাংকটির মালিকপক্ষ আইসিবি গ্রুপ। কিন্তু ব্যাংকটি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় বিক্রির পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে এসেছে তারা। সম্প্রতি প্রকাশিত আইসিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপ হোল্ডিংয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটিতে আইসিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান মাইকেল আর হ্যানলন উল্লেখ করেন, ২০১০ সালের প্রথম ছয় মাস অর্থাত্ জুন পর্যন্ত গ্রুপের বাংলাদেশ শাখায় (আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক) মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে আইসিবি।
আইসিবি মূলত ২০১০ সালের জুন থেকে লাভের মুখ দেখতে শুরু করে। ২০১০ সালের জুন শেষে ৯৯ লাখ টাকা মুনাফা করে ব্যাংকটি। আর এ বছরের সেপ্টেম্বর শেষে তাদের পরিচালন মুনাফা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ব্যাংকটি ‘ওরিয়েন্টাল ব্যাংক রিকনস্ট্রাকশন স্কিম-২০০৭’-এর আওতায় এখন পর্যন্ত গ্রাহকদের ৪৫৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত চলবে এ স্কিমের টাকা বিতরণ।
আইসিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৪৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আর ওই বছর ব্যাংকটি খেলাপি ঋণের ১১৫ কোটি টাকা আদায় করতে সক্ষম হয়। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা আরও ৭৩ কোটি ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করে। ফলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯২ থেকে কমে ৫৮ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে এ ব্যাংকের মুনাফাযোগ্য বিনিয়োগ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
আইসিবি এখন পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ করেছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আইসিবির মাধ্যমে আনার জন্য বিদেশী বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। সম্প্রতি ব্যাংকটি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সহযোগিতায় আইসিবি সারা দেশে ২০১২ সালের মধ্যে ১০০টি এটিএম বুথ স্থাপন করবে।
জানা গেছে, আইসিবি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা শাখা খুলবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের বেশি ঋণ দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ব্যাংকটি। এতে গ্রাহক আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক মামুন মাহমুদ শাহ। তিনি গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অন্যান্য ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমরা গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে আমরা যথাসময়ে পুরনো গ্রাহকদের অর্থও ফেরত দিচ্ছি। পাশাপাশি নেয়া হয়েছে গ্রাহকমুখী নানা সেবা। তিনি জানান, এসব সেবার সুফল এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছে গ্রাহক এবং ব্যাংক উভয়পক্ষই।’

News Source


USMANIA GLASS : অনিয়ম-অদক্ষতায় ডুবতে বসেছে, ফ্যাক্টরি এমডি পদে চিকিত্সক, বিক্রয় বিভাগের প্রধান মসজিদের ইমাম

রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের একমাত্র গ্লাস শিট কারখানা উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরি অনিয়ম-অদক্ষতায় লোকসানের মুখে পড়েছে। উত্পাদন শুরুর পর থেকে অব্যাহতভাবে মুনাফা করে এলেও গত অর্থবছর থেকে লোকসানি প্রতিষ্ঠানের খাতায় নাম লেখাতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা কর-পরবর্তী মুনাফা করলেও গত অর্থবছর ৫০ লাখ টাকারও বেশি লোকসান দিয়েছে। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক অদক্ষতা ও নানা অনিয়মের কারণে প্রতিযোগিতার বাজার থেকে ছিঁটকে পড়ছে সম্ভাবনাময় এই শিল্পটি। কারখানা পরিচালনায় যোগ্য ব্যক্তির সংকট এর প্রধান কারণ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন ওই ফ্যাক্টরির-ই চিকিত্সক ডা. তৌহিদুর রহমান। বিক্রয় বিভাগের প্রধান হিসেবে আছেন ফ্যাক্টরি মসজিদের ইমাম হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আবদুল বারী এবং হিসাব বিভাগের প্রধানের পদে আছেন অ্যাকাউন্টস অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এস্কান্দার মির্জা। একইভাবে অন্যান্য পদেও চলছে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তির সংকট। 
ফ্যাক্টরি সংশ্লিষ্টরা জানান, ৪ মাস আগে ফ্যাক্টরির চিকিত্সাকেন্দ্রের চিকিত্সককে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব দেয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিসিআইসিতেই (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) তোলপাড় চলে। এ নিয়ে বিসিআইসি ও ফ্যাক্টরির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। কিন্তু তারপরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ডা. তৌহিদুর রহমান।
অদক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়মও থেমে নেই। কাঁচামাল কেনা থেকে শুরু করে সংস্কার, নির্মাণকাজ সবকিছুতেই ভর করেছে অনিয়ম। নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহারের কারণে উত্পাদিত পণ্যের গুণগত মানও আগের মতো নেই। প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না বেসরকারি দুটি গ্লাস ফ্যাক্টরির সঙ্গে। ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরের তুলনায় ২০০৯-১০ অর্থবছরে এক লাফে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা মুনাফা কমে যায়। তবে মুনাফা কমে যাওয়ার বিষয়টিকে ওই অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভিন্নভাবে ব্যাখা করা হয়। 
পরিচালকমণ্ডলীর প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি গ্লাস শিট উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাসির গ্লাস ও পিএইচপি তাদের উত্পাদিত পণ্য রফতানি করতে না পারায় অভ্যন্তরীণ বাজারে কম দামে বিক্রি করে। তাই বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন সময়ে পাঁচবার শিটের দাম পুনর্নির্ধারণ করায় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় মুনাফা কম হয়েছে। 
এদিকে ডা. তৌহিদুর রহমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির চিকিত্সা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। গ্লাস ফ্যাক্টরির কাজে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে থাকা শ্রমিকদের প্রায়ই চিকিত্সার প্রয়োজন হলেও চিকিত্সক পদে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় শ্রমিকরা প্রয়োজনীয় চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। 
ফ্যাক্টরির লোকসান ও অনিয়ম বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. তৌহিদুর রহমান কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফ্যাক্টরির একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, অনিয়মের কারণেই লাভজনক এই প্রতিষ্ঠান লোকসান দিচ্ছে। তারা জানান, অনিয়ম চললেও কেউ প্রতিবাদ বা মুখ খুলতে পারেন না। বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগ দেয়ার পর এ ব্যাপারে যেন অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।


News Source

বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসার জন্য তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না পাইপলাইনে থাকা কোম্পানিগুলো

বুক বিল্ডিং পদ্ধতি চূড়ান্ত অনুমোদনের পর তালিকাভুক্তির জটিলতা কাটলেও এ পদ্ধতিতে বাজারে আসার জন্য তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না পাইপলাইনে থাকা কোম্পানিগুলো। তবে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর হলে নতুন অনেক কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করছেন মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
এদিকে চলতি সপ্তাহে এসইসি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বুক বিল্ডিং পদ্ধতির স্থগিতাদেশ তুলে নেবে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে ২০১০ সালের মার্চে বুক বিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর করা হয়। কিন্তু ওই সময় বিধিমালার দুর্বলতার সুযোগে কিছু কোম্পানি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছরের ২০ জানুয়ারি এই পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত করে এসইসি। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজারে শেয়ারের চাহিদা ও জোগানের (ডিমান্ড অ্যান্ড সাপ্লাই) মধ্যে সামঞ্জস্য বিধানের লক্ষ্যে নতুন নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা করছে এসইসি। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার সরবরাহের ক্ষেত্রে যাতে দীর্ঘ বিরতি না পড়ে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। আবার এক সঙ্গে অনেক কোম্পানি আসার ফলে বাজারে যাতে অর্থ সংকট তৈরি না হয় সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। তবে এসইসিতে আবেদন করার পর উদ্যোক্তারা যাতে অযথা সময়ক্ষেপণ বা হয়রানির শিকার না হন সেদিকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার পর এই পদ্ধতিতে জমা পড়া আবেদনগুলো পর্যালোচনা করা হবে। স্থগিতাদেশের আগে এসইসিতে এ ধরনের ৪টি আবেদন জমা ছিল। এর মধ্যে ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেও আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় সেই সময় বাজারে আসতে পারেনি অ্যালায়েন্স লিমিটেড।
অন্যদিকে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে শেয়ারবাজার থেকে ৫৫৫ কোটি টাকার সংগ্রহের জন্য গত ১৩ জানুয়ারি ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের আইপিও অনুমোদন করে এসইসি। তবে এর পরপরই বুক বিল্ডিং পদ্ধতি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আইপিও প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেনি কোম্পানিটি। এ কোম্পানির শেয়ারের নির্ধারিত মূল্য নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি কোম্পানিটি বুক বিল্ডিংয়ের পরিবর্তে নির্ধারিত মূল্যে আইপিও অনুমোদনের জন্য এসইসিতে আবেদন করেছে।
এ ছাড়া বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে নাভানা রিয়েল এস্টেট এবং কেয়া কটন মিলস লিমিটেডের আইপিও আবেদন এসইসিতে জমা আছে। এর মধ্যে নাভানা রিয়েল এস্টেট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে ৩৭২ কোটি এবং কেয়া কটন ৫ কোটি শেয়ার ছেড়ে ২৪৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। তবে আগের নির্ধারিত দরে এই দুই কোম্পানির আইপিও অনুমোদন করবে না এসইসি। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে হলে কোম্পানিগুলোকে নতুন বিধি অনুযায়ী রোড শো আয়োজন করে নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের নির্দেশনা দেয়া হবে বলে এসইসি সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, গত জানুয়ারি পর্যন্ত বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল বেশকিছু কোম্পানি। এর মধ্যে জিএমজি এয়ারলাইন্স এ বছরের ১২ জানুয়ারি রোড শো আয়োজন করে। কোম্পানিটি মোট ৬ কোটি শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল। তবে আর্থিক পরিস্থিতি ভালো না থাকায় কোম্পানিটি আপাতত শেয়ারবাজারে আসছে না বলে ২৭ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছে। এর আগে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিল গোল্ডেন হারভেস্ট, বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড, ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আনন্দ শিপইয়ার্ড লিমিটেড, অরিয়ন ফার্মা লিমিটেড, পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং সামিট শিপিং লিমিটেড। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড এরই মধ্যে নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে বাজারে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কোম্পানিটি ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছাড়বে। এ কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপক আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
গোল্ডেন হারভেস্ট ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য ব্যানকো ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব দিয়েছিল। ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার জন্য গত ১৬ জানুয়ারি রোড শো করে। এই কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রথম কোম্পানি হিসেবে শেয়ারবাজারে আসার সিদ্ধান্ত নেয় আনন্দ শিপইয়ার্ড লিমিটেড। বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের পর কোম্পানিটির মোট ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার কথা ছিল। আনন্দ শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে রয়েছে প্রাইম ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। অরিয়ন ফার্মা লিমিটেড ৪ কোটি এবং পিএচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যে অরিয়ন ফার্মা আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে ইস্যু ব্যবস্থাপক নিযুক্ত করে। আর পিএচপির ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে অ্যালায়েন্স ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস লিমিটেড। সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান সামিট শিপিং লিমিটেড ৩ কোটি শেয়ার ছাড়ার জন্য ব্যানকো ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ইস্যু ব্যবস্থাপক নিয়োগ করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড (বিবিএস) নামে একটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার জন্য জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দিয়েছিল।
জানা গেছে, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বাজারে আসতে হলে প্রতিটি কোম্পানিকেই পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে হবে। এরই মধ্যে কোনো কোনো কোম্পানি এ পদ্ধতিতে বাজারে আসার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেছে। এমনকি দু-একটি কোম্পানি বর্তমান পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজারে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে বিভিন্ন মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


News Source


প্লেসমেন্ট-সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা প্রকাশ : সর্বোচ্চ ১০০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার বিক্রি করা যাবে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোনো কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের জন্য ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্লেসমেন্টের মাধ্যমে গণহারে শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না। এ ধরনের কোম্পানিগুলো বোনাস বা রাইট শেয়ার না দিয়ে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে উদ্যোক্তা শেয়ারধারীদের বাইরে সর্বোচ্চ ১০০ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে পারবে।
এ ক্ষেত্রে এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহের ১৫ দিনের মধ্যে তাদের নামের তালিকাসহ শেয়ারের বরাদ্দপত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। মূলধন সংগ্রহের নামে অনৈতিক প্লেসমেন্ট শেয়ারের বাণিজ্য ঠেকাতেই এ বিধান করা হচ্ছে।
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গতকাল রোববার নিজস্ব ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করেছে। যা জনমত যাচাইয়ের জন্য শিগগিরই কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হবে। 
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, এসইসি মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়ার পর ন্যূনতম এক বছর এসব শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তর করা যাবে না। শেয়ারের বরাদ্দপত্র হস্তান্তরের দিন থেকে এ সময় গণনা শুরু হবে। 
নতুন নীতিমালায় মূলধন সংগ্রহের পর ন্যূনতম তিন বছর পর্যন্ত পুরোনো উদ্যোক্তাদের কাছে কোম্পানিটির কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার রাখার বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগকারীদের আবেদনের ফরমের সঙ্গে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) যুক্ত করার বিধান রাখা হচ্ছে। 
আবার শেয়ার বিক্রির জন্য কোম্পানিকে সাধারণ আহ্বান বা বিজ্ঞাপন করা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, মূলধন সংগ্রহের জন্য প্রস্তাবনা বা তথ্য স্মারকে কোম্পানির অতীত ইতিহাস, ব্যবস্থাপনার মূল ব্যক্তিদের জীবনবৃত্তান্ত, মূলধন সংগ্রহের কারণ, প্রকল্প বাস্তবায়নের তফসিল, সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, মৌলিক শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস), সর্বশেষ তিন বছরের তরলীকৃত (ডাইলুটেড) ইপিএস, শেয়ারপ্রতি প্রকৃত সম্পদমূল্য (এনএভি), মূল্য নির্ধারণ ও প্রিমিয়াম থাকলে তার যৌক্তিকতা তুলে ধরতে হবে। এগুলো প্রস্তুত ও এসইসিতে জমা দেওয়ার কাজটি করবে একটি মার্চেন্ট ব্যাংক।
জানা গেছে, মূলধন সংগ্রহের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অনেক কোম্পানি অনৈতিক প্লেসমেন্ট বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে। আর এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেক মধ্যস্বত্বভোগীও আয় করেছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। পুঁজিবাজার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। 
এ প্রতিবেদনে প্লেসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছিল। এরই ভিত্তিতে নবগঠিত এসইসি নীতিমালা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্লেসমেন্ট বাণিজ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হলে আগের এসইসিও নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই কমিশন সর্বোচ্চ ৫০ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ মূলধন সংগ্রহের প্রস্তাব করেছিল।


News Source


বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল নিয়ে এসইসিতে আলোচনা

ঢাকা, অক্টোবর ৩ - বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিলের (এমএসএফ) বিষয়ে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন উদ্যোক্তারা।

সোমবার সকালে এসইসি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সাথে দেখা করেন এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ, Bangladesh Association of Publicly Listed Companies র (বিএপিএলসি) সভাপতি সালমান এফ রহমান ও Bangladesh Insurance Association  সভাপতি শেখ কবির হোসেন।

SEC থেকে বের হওয়ার সময়, দুপুর ২টার দিকে সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, "বাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল করার প্রক্রিয়া নিয়ে এসইসির সাথে আলোচনা করেছি।"

মার্জিন ঋণ সংকট কাটাতে ২৯ সেপ্টেম্বর বেসরকারি পর্যায়ে একটি মেয়াদহীন মিউচুয়্যাল ফান্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। FBCCI এর ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা বা ব্যক্তি এই ফান্ডে অংশ নিতে পারবে।

মার্জিন ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান ও ঋণগ্রহিতার সম্মতিতে পোর্টফোলিও এই ফান্ডে হস্তান্তর করা হবে। বিনিময়ে ঋণগ্রহিতা একটি ইউনিট সার্টিফিকেট পাবেন। এটি স্টক এক্সচেঞ্জগুলোতে লেনদেন করা যাবে।

যেসব পোর্টফোলিও এই তহবিলে স্থানান্তর করা হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছর সুদ ও শ্রেণীকরণ স্থগিত করার জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন জানানো হবে।

প্রাথমিকভাবে এই ফান্ডের উদ্যোক্তা তহবিল হবে ৫০০ কোটি টাকা। তবে পরবর্তীতে এই তহবিল আরো বাড়নো যাবে। 

News Source


Sunday, October 2, 2011

বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ফান্ডে নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারবেন

গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের পর বাজারে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ফান্ড নামে’ পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফান্ডটির মূল উদ্যোক্তা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। সহ উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক (সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা), জীবন বিমা করপোরেশন, সাধারণ বিমা করপোরেশন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল)। এরই মধ্যে উদ্যোক্তা অংশের দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বাকি তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। আজ থেকে ফান্ডের ইউনিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বিশেষ কারণে ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা। এ নিয়ে প্রথম আলো অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান। এতে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ফান্ডের বিভিন্ন দিক।


প্রথম আলো: বাংলাদেশ ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন কবে থেকে শুরু হবে?
ফায়েকুজ্জামান: আজ রোববার থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দিয়ে ফান্ডের ইউনিট বিক্রি উদ্বোধন করাতে চাচ্ছি। তাই ১০ অক্টোবর এটা শুরু হবে বলে আশা করছি। দেশের ও দেশের বাইরের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশ ফান্ডে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম আলো: ফান্ডটির উদ্যোক্তাদের অংশের কী অবস্থা?
ফায়েকুজ্জামান: মোট পাঁচ হাজার কোটি টাকার এই ফান্ডের দেড় হাজার কোটি টাকা দেবে উদ্যোক্তারা। এই দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগিরই এই টাকা সংগ্রহ সম্পন্ন হবে।

প্রথম আলো: মিউচুয়াল ফান্ডটির আকার কত হবে?
ফায়েকুজ্জামান: মিউচুয়াল ফান্ডটির প্রাথমিক আকার পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এটি অমেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড হওয়ায় পরে এর আকার আরও বাড়বে।

প্রথম আলো: ফান্ডটি গঠনে সব পক্ষের সহযোগিতা পাওয়া গেছে কি?
ফায়েকুজ্জামান: ফান্ডটি গঠনে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ (এসইসি) সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকেও আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া গেছে।

প্রথম আলো: বাংলাদেশ ফান্ড বাজারে কেমন প্রভাব ফেলবে বলে আশা করেন?
ফায়েকুজ্জামান: পাঁচ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছি। এই টাকা দিয়ে খারাপ মুহূর্তে বাজারে সাপোর্ট দেওয়া হবে। এতে বাজারের স্থিতিশীলতা ত্বরান্বিত হবে।

প্রথম আলো: বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে কী বলবেন?
ফায়েকুজ্জামান: যেকোনো বিনিয়োগকারী এই মিউচুয়াল ফান্ডে নিশ্চিন্তে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এমনকি বিনিয়োগকারীরা এখান থেকে আশানুরূপ লাভবান হবেন বলে আশা করি। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিশ্চিন্তে এই ফান্ডে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

News Source


Friday, September 30, 2011

Dealer banks have to maintain 75pc of SLR in Bangladesh Govt securities

The primary dealer banks and non-bank financial institutions will have to maintain 75 per cent of their statutory liquidity reserve, instead of earlier 50 per cent, in government securities, the Bangladesh Bank announced in a circular on Thursday.

As a result of the latest BB move, the government, which already borrowed around Tk 7,000 crore in July 1 to September 15 of the current fiscal year, will get an enhanced scope for borrowing from the banking system, central bank officials said.

The circular issued by the BB Department of Offsite Supervision says new investment ceiling in the Health to Maturity or HTM securities including treasury bonds has been reset for the time being at 75 per cent of the SLR of the primary dealers in the purchasing month will come into effect from October 1.

At present, three treasury bills are transacted through auctions to adjust the government borrowing from the banking system. The treasury bills have 91-day, 182-day, and 364-day maturity periods, while four government bonds of 5-year, 10-year, 15-year, and 20-year tenures are being traded on the market. Investment in the treasury bonds is regarded as the fulfilment of SLR ratio set by the Bangladesh bank.

The central bank earlier selected 15 primary dealers – 12 banks and three NBFIs – to handle government-approved securities on the secondary market. A primary dealer is a bank or securities broker-dealer that can trade directly with the Bangladesh Bank.

The primary dealers subscribe and underwrite primary issues and make secondary trading deals through two-way price quotations.

Meanwhile, in a separate circular issued on Thursday, the BB Debt Management Department extended the validity of the latest bids submitted by the primary dealers in primary auction of government securities until further notification.

Earlier in June 21, the deadline for making fresh bids for treasury bills and government bonds by the primary dealers was set at September 30.According to the central bank regulation, primary dealers have bindings to invest in the government bonds but until December 31, 2010, they had not been allowed to sell them to individuals or other institutions due to the absence of a secondary market. But, since January 2011, the primary dealers can sell the treasury bonds only to other banks and NBFIs as well as to life insurance companies.

News Source